বাঞ্চারামপুরে ১ যুগ ধরে শিকলে বাঁধা কামরুল

0 0
প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্চারামপুরে দীর্ঘ ১ যুগ ধরে শিকলে বাঁধা অবস্থায় জীবন যাপন করছে প্রতিবন্ধী শিশু কামরুল হাসান-(১৫)। দিনের বেলায় নগ্ন শরীরে বাড়ির পাশের একটি মেহগনি গাছে শিকল দিয়ে বাঁধা রাখা হয় তাকে। বাঞ্চারামপুর উপজেলার বাঞ্ছারামপুর ইউনিয়নের মধ্যপাড়ার দিনমজুর কামাল হোসেনের পুত্র শিশু কামরুল হাসান। কামাল হোসেনের দুই ছেলে এক মেয়ের মধ্যে কামরুল সবার বড়।
তার পরিবারের লোকজন জানান, জন্মের মাত্র ৩ বছর পর টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মানসিক ভারসাম্য হারায় শিশু কামরুল হাসান। দিনমজুর কামাল হোসেন অর্থাভাবে পুত্রের সঠিক চিকিৎসা করাতে পারেনি। মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে কামরুল ঘরের জিনিসপত্র ও খাবার-দাবার নষ্ট করে ফেলত। মাঝে মাঝে আশপাশের বাড়িতে গিয়ে তাদের মালামালও নষ্ট করতো। হারিয়ে যেত বিভিন্ন জায়গায়।
পরে একসময় বাবা-মা কামরুল হারিয়ে যাওয়ার ভয়ে দড়ি দিয়ে বেঁধে ঘরের পাশে মেহগনি গাছে বেঁধে রাখেন। মাঝে মধ্যে দড়ি ছিড়ে পালিয়ে যেত সে। এই অবস্থায় তার গলায় শিকল পেচিয়ে তালা মেরে বেঁধে রাখেন। এভাবেই গত ১২ বছর ধরে নগ্ন শরীরে খোলা আকাশের নিচে কাটছে কামরুলের দিনরাত। মাঝে মধ্যে বড় ঝড়-বৃষ্টি হলে তাকে ঘরে নেয়া হয়। শিকলে বাঁধা অবস্থায় মা সামছুন নাহার তাকে তিন বেলা কামরুলকে খাইয়ে দেন।  কাউকে দেখলেই তাকে শিকল মুক্ত করতে ইশারা দেয় কামরুল। খোলা আকাশের নীচেই বাঁধা অবস্থায় প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেয় সে।
কামরুল হাসানের মা সামছুন নাহার বলেন, আমার ভাল ছেলেটা টাইফয়েড জ্বরে পাগল হয়ে গেছে। ঘরের মালামাল ভাংচুর ও হারিয়ে যাওয়ার ভয়ে তাকে শিকল দিয়ে গাছের সাথে বেঁধে রাখি।
কামরুলের পিতা দিনমজুর কামাল হোসেন বলেন, অভাবের সংসারে ছেলেটার উন্নত চিকিৎসা করাতে পারিনি। জ্বরে সে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছে। হারিয়ে যাওয়ার ভয়ে তাকে শিকলে বেঁধে রাখি।
এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি সদস্য সাব মিয়া বলেন, জন্মের কিছুদিন পরেই সে পাগল হয়ে যায়। বাপ-মা তাই শিকল দিয়ে বেঁধে রাখে। আমি মাঝে মধ্যে তাকে সাহায্য সহযোগিতা করি।   
এ ব্যাপারে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ সিরাজুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ ১২ বছর যাবত একটি ছেলে শিকলে বাঁধা অবস্থায় খোলা আকাশের নিচে আছে এটা দুঃখজনক। আমি খোঁজ নিয়ে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করব।

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

Shares