বিজিএফসিএল নিয়োগ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ

0 0
বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানী লিমিটেডে (বিজিএফসিএল) নিয়োগ নিয়ে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কোম্পানীতে খালি থাকা ৩২ পদের বিপরীতে ১৪৩ জনকে নিয়োগের জন্য প্রক্রিয়া চুড়ান্ত করা হয়েছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে। ইতিমধ্যেই লিখিত ও মৌখিকে উত্তীর্ণ ওইসব চাকুরী প্রার্থীদেরকে মেডিকেল চেকআপ করাতে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, মন্ত্রী, এম.পির তদবির রক্ষা ও নিয়োগ বাণিজ্য করতে এমন ঘটানো হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে এই নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারি অনেক কোটাই মানা হয়নি। নিয়োগ পাননি কোনো নারী প্রার্থী।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সংশ্লি¬ষ্টরা বলছেন, নিয়োগ নিয়ে কোনো প্রকার অনিয়ম হয়নি। তবে এখনো নিয়োগ দেওয়া হয়নি। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মেডিকেল চেকআপ করতে বলা হয়েছে। কোম্পানির অনুমোদন ক্রমেই পদ সৃষ্টি করে এসব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে সরকারি সকল প্রকার বিধিমালাই অনুসরন করা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১০ সালের ৩ জুন ডেইলি স্টার ও ৫ জুন দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ড কোম্পানির কর্মচারি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ওই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রায় এক বছর পর ২০১১ সালে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সম্প্রতি ১৪৩ জনকে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় । নিয়োগ প্রাপ্তদেরকে মেডিকেল চেকআপ করানোর জন্য ইতিমধ্যেই ঢাকা জিপিও থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
জানা গেছে, ২০০৯ সালের ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় বাংলাদেশ সচিবালয়ে বিজিএফসিএল পরিচালক মন্ডলীর ৪৯৭তম সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় ১১৬৩ জনবল বিশিষ্ট কোম্পানির সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্বিন্যাস করা হয়।
বিজিএফসিএল চেয়ারম্যান ও পরিচালকের স্বাক্ষরিত ওই কাঠামো থেকে জানা যায়, কম্পিউটার অপারেটর পদে মোট ২৫ জন প্রয়োজন। এর মধ্যে কর্মরত আছেন ১৪ জন। বাকি ১১টি পদ খালি থাকলে বর্তমান নিয়োগে ৩৭ জনকে নেওয়া হচ্ছে। এটেন্টডেন্ট (প্ল¬ান্ট) পদে মোট পদের সংখ্যা ১১টি। এর মধ্যে কর্মরত আছেন একজন। খালি ১০টি পদের বিপরীতে ৫৮ জনকে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া ফায়ার ফাইটার পদে মোট ২৯ জন লোকের প্রয়োজন। এ পদে কোম্পানীতে কর্মরত আছেন ১৮ জন। মাত্র ১১টি খালি পদের বিপরীতে ৫৮জনকে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে ওই পদে।
এক চাকরি প্রার্থীর ভাই মিনহাজ নবী খান পলাশ অভিযোগ করে বলেন, চাকরি দেওয়ার জন্য এক প্রভাবশালীকে তিনি মোটা অংকের টাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু চাকুরি হয়নি। যারা বেশি টাকা দিতে পেরেছে তাদেরই চাকরি হয়েছে।
কম্পিউটার অপারেটর পদে চাকুরী প্রার্থী কাউছার আহম্মেদ হীরা বলেন, কোটার বাইরেও অনেক লোককে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে বলে শুনেছি। সবাইকে নিয়োগ দেওয়া না হলে মেডিকেল চেকআপ করতে বলা হবে কেন? তাহলেতো আমরা যারা লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলাম তাদেরকেও মেডিকেল চেকআপ করাতে পারতো।
এ ব্যাপারে বিজিএফসিএল সিবিএ সভাপতি মোঃ শাহ আলম বলেন, কতজনকে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে তা আমার জানা নেই। বিষয়টি সম্পূর্ণ কোম্পানী কর্তৃপক্ষের ব্যাপার। তবে এখানে অনেক লোকের সংকট আছে বলে জানি।
কোম্পানীর জি.এম (হিউম্যান রিসোর্স) এর অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা মোঃ রফিকুল আলম বলেন, আমি এ বিভাগে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছি। তাই এ বিষয়ে বেশি কিছু বলতে পারব না। যিনি দায়িত্বে আছেন নীতিনির্ধারণী বিষয়ে তিনিই সিদ্ধান্ত নেবেন’।

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

Shares