সাগর-রুনির লাশ হাইলি ডিকম্পোজড,আলামত নষ্টের সন্দেহ

0 0
সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির কবর থেকে উত্তোলন করা লাশের পুনরায় ময়না তদন্ত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সম্পন্ন হয়েছে। এখন মর্গের তত্ত্বাবধানে গোসল করানোর কাজ চলছে। পরে তাদের আবারও দাফন করা হবে।

ঢামেকের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান প্রধান কাজী গোলাম মোখলেসুর রহমানের তত্ত্বাবধানে এটি সম্পন্ন হয়। তাকে সহযোগিতা করেন একই বিভাগের প্রভাষক সহকারী অধ্যাপক কামরুল হাসান সর্দার, পারভেজ ইফতেখার।

ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান কাজী গোলাম মোখলেসুর রহমান বৃহস্পতিবার দুপুরে মর্গে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের বলেন,“বডি হাইলি ডিকম্পোজড হয়ে গেছে। পেশি ও চামড়া হাড় থেকে অনেকটাই সরে গেছে। অর্গানগুলোও ঠিকমতো বোঝা যাচ্ছিল না।”

পুনঃময়নাতদন্তের পর মোখলেসুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন,“চেতনানাশক বা বিষ প্রয়োগ করা হয়েছিল কি-না,কে আগে মারা গিয়েছি- এসব প্রশ্নের উত্তর জানার জন্যই কবর থেকে লাশ তোলা হয়।”

কবর দেওয়ার আড়াই মাস পর পরীক্ষা করে বিষ প্রয়োগের বিষয়টি বোঝা সম্ভব কি না জানতে চাইলে ফরেনসিক বিভাগের প্রধান বলেন, “সাধারণত সব বিষের আলামত এতোদিন থাকে না। তবে কিছু বিষের নমুনা বহুদিন পর্যন্ত দেহাশেষে থেকে যায়।”

হত্যাকাণ্ডের পর প্রথম ময়নাতদন্তের সময় ভিসেরা পরীক্ষা বা নমুনা রাখা হয়নি কেন জানতে চাইলে ডা. মোখলেস জানান, সেই সময় পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা মৃত্যুর কারণ ও ধরন জানতে চেয়েছিলেন। বিষ প্রয়োগ সম্পর্কিত কোনো সন্দেহের কথা বলেননি। “আমাদের তখন বিষ প্রয়োগের সন্দেহের কথা বললে তখন রাসায়নিক পরীক্ষাও করা হতো।”

ঢামেক মর্গে সাগর সরওয়ারের দুলাভাই শরীফুল ইসলাম বলেন,আড়াই মাস হয়ে গেছে। পুলিশ কিছু বের করতে পারেনি। আমরা আশায় আছি। এখন মনে হয় কিছু হবে।

তিনি ক্ষোভের সাথে বলেন,বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় সরকার নাম পরিবর্তন করেছে। আমি মনে করি সাগর রুনির ঘটনায় পুলিশ ব্যর্থ। এটি তারা স্বীকারও করেছে। তাই সরকারের উচিত পুলিশের নাম পরিবর্তন করা।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ১০টায় প্রথমে সাগরের লাশ উত্তোলনের কাজ শুরু হয়। এটি শেষ হয় ১০টা ৪০ মিনিটে। পরে শুরু করা হয় মেহেরুন রুনির লাশ উত্তোলনের কাজ। এটি ১১টা ৭ মিনিটে শেষ হয়। এর পরে কাপড়ে ঢেকে কফিনে করে তাদের লাশ মর্গে নেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, গত ১০ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে নিজেদের ভাড়া বাসায় রহস্যজনকভাবে খুন হন সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি। সাগর সরওয়ার মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক এবং মেহেরুন রুনি এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ছিলেন। ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে সাংবাদিক দম্পতির লাশ আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়।

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

Shares