তিনটি টিভি চ্যানেলের সম্পচার সাময়িক বন্ধ

0 0

বিএনপির মহাসমাবেশের সময় বেসরকারি তিনটি স্যাটেলাইট টেলিভিশন দেখতে পায়নি দর্শকেরা। চ্যানেলগুলো হলো একুশে টেলিভিশন, ইসলামিক টেলিভিশন ও বাংলাভিশন। সোমবার দুপুরের পরপরই হঠাৎ করে ওই চ্যানেলগুলো বন্ধ হয়ে যায়।

 

উত্তরা থেকে একজন সংবাদকর্মী  ফোন করে জানান, ওই এলাকায় ডিশ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছে।  ধানমন্ডি থেকে একজন ফোন করে জানান, তারাও এই তিনটি চ্যানেল দেখতে পাচ্ছেন না। এ ব্যাপারে আওয়ামীলীগের যুগ্মসম্পাদক মাহবুবুল হানিফের কাছে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে তিনি জানান, তিনি এধরনের কোন খবর পাননি ।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে বাংলাভিশনের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘গত পাঁচ-ছয় দিন থেকেই সরকারের বিভিন্ন উচ্চমহল থেকে আমাদের চ্যানেলে ফোন করে মহাসমাবেশের খবর লাইভ কাভার করব কি না, জানতে চাওয়া হচ্ছিল। তখন আমরা বলেছি, অন্য চ্যানেলগুলো সম্প্রচার করলে আমরাও করব। তারপর আজ সকালে যখন মহাসমাবেশ বিষয়ে একটি অনুষ্ঠান লাইভ সম্প্রচার শুরু হলো, তার কিছুক্ষণ পরই ফোন করে বলা হলো তা বন্ধ করে দিতে। অল্প কিছুক্ষণ পরই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শকেরা ফোন করে জানালেন, তাঁরা বাংলাভিশন দেখতে পারছেন না। বেলা আড়াইটার দিকে ফোন এল, ‘লাইভ সম্প্রচার বন্ধ করুন, নইলে মুশকিল হয়ে যাবে। এর একটু পরই কেবল অপারেটরদের সংগঠন কোয়াব থেকে ফোন করে বলা হলো, তাদের একটি গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা ফোন করেছিলেন বাংলাভিশনের সম্প্রচার বন্ধ করে দিতে।
এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কেবল অপারেটর জানান, প্রশাসনের চাপের কারণে কেবল অপারেটররা এই তিনটি চ্যানেলের প্রচার বন্ধ রেখেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে গতকাল রাতে এ ধরনের একটি নির্দেশ দেওয়া হয়। তাঁরা শুধু সেটাই বাস্তবায়ন করছেন।

বাংলাভিশনের মোস্তফা ফিরোজ বলেন, “সাড়ে ১২টা থেকে আমরা মহাসমাবেশের ওপর স্টুডিওর অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার করছিলাম। মহাসমাবেশ সরাসরি সম্প্রচারের প্রস্তুতিও ছিল আমাদের।”  “কিন্তু পরে যখন শুনলাম সম্প্রচারই দেখা যাচ্ছে না, তখন আর আমরা সরাসরি সম্প্রচার করিনি।” চ্যানেল না দেখা যাওয়াটা “খুবই অপ্রত্যাশিত ও দুঃখজনক ঘটনা” বলে মন্তব্য করেন তিনি ।

অবশ্য মহাসমাবেশের শেষের দিকে  নয়া পল্টনের সমাবেশ থেকে খালেদা জিয়ার বক্তব্য সরাসরি স¤প্রচার করে একুশে টেলিভিশন। একুশে টেলিভিশন ব্যতিত আর কোন চ্যানেল মহাসমাবেশের খবর লাইভ সম্প্রচার করেনি ।

এর আগে গতকাল রোববার বেতার তরঙ্গ (স্পেকট্রাম) পুনঃ বরাদ্দের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজ না থাকায় বেসরকারি টেলিভিশন একুশে টিভিকে নোটিশ দেয় বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বিটিআরসির চেয়ারম্যান জিয়া আহমেদ বলেন, ‘কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়া রেডিও ইকুইপমেন্ট এবং বরাদ্দকৃত স্পেকট্রাম স্থগিত অবস্থায় সম্প্রচারে যাওয়ার কারণ জানতে চেয়ে তাদের একটি নোটিশ দেওয়া হয়েছে।’ তরঙ্গ বরাদ্দ বিষয়ে একুশে টিভির লাইসেন্স বাতিল করা হতে পারে কি না—প্রশ্নের জবাবে বিটিআরসি

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

Shares