দরপত্র ছাড়াই ২৪ পশুর হাট ইজারা

0 0

br hut 2-9-15

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় কোরবানির ২৪টি পশুর হাট দরপত্র ছাড়াই ইজারা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এসব হাটের জন্য দরপত্র আহ্বান করেও পরে খাস কালেকশনের (বিক্রির পর টাকা আদায়) সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে কয়েক লাখ টাকার রাজস্ব আদায় থেকে বঞ্চিত হয়েছে সরকার।

সূত্র জানিয়েছে, স্ব স্ব ইউনিয়নের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা কর্তৃক পশুর হাট থেকে খাস কালেকশনের নিয়ম থাকলেও বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তার কার্যালয়ের উচ্চমান সহকারীর মাধ্যমে কালেকশনের টাকা বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে আদায় করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএনও নূর-ই-খাজা আলামীন বাংলানিউজকে বলেন, পশুর হাট ইজারায় কোনো অনিয়ম হয়নি। সময়ের অভাবে পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা যায়নি। ফলে খাস কালেকশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ইউএনও কার্যালয় সূত্র জানায়, উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ২৪টি অস্থায়ী গরু-ছাগলের হাট বসার সিদ্ধান্ত হয়। এসব হাট ইজারার জন্য দরপত্র বিক্রি ৮ সেপ্টেম্বর এবং দরপত্র জমা দেওয়ার তারিখ ৯ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করা ছিল। পরে ২৪টি হাটের বিপরীতে ৫টির জন্য ১০ জন শিডিউল কেনেন। কিন্তু প্রত্যেক হাটের বিপরীতে একটি করে শিডিউল জমা পড়ে।

এরপর পুনরায় দরপত্র আহ্বান না করেই হাটগুলো থেকে খাস আদায়ের সিদ্ধান্ত নেয় উপজেলা প্রশাসন। ২৪টি হাটের বিপরীতে সরকারি মূল্য ৩ লাখ ২৪ হাজার ৩৬৫ টাকা। কিন্তু ইজারা না হওয়ায় সরকার এ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

হাটগুলো হলো, উজানচর কে এন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অস্থায়ী গরু-ছাগলের হাট, রাধানগর সাদ্দাম বাজার, সরিষারচর নতুন বাজার, ছলিমাবাদ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, হায়দরনগর বটতলী বাজার, মিরপুর বাজার, ভুরভুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ, ঝুনারচর ঈদগাহ মাঠ, চরলহনিয়া বাজার, পূর্বহাটি গাবতলী বাজার, ফরদাবাদ ড. রওশন আলম কলেজ মাঠ, ফরদাবাদ শান্তির বাজার, মরিচাকান্দি বাজার, দরিয়াদৌলত বাজার, বাহেরচর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ, সোনারামপুর বাজার, ধরিয়ারচর বাজার, চরছয়ানী মাদ্রাসা মাঠ, আইয়ূবপুর এ.বি তাজুল ইসলাম উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ, কানাইনগর বালুর মাঠ, রূপসদী দক্ষিণ বাজার, গকুলনগর আনন্দ বাজার, তেজখালী ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ, শাহ্ রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ।

এ বিষয়ে ছলিমাবাদ সহকারী ভূমি কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, আমার আওতাধীন ২ ইউনিয়নে ৪টি পশুর হাট বসেছিল। কিন্তু খাস কালেকশনে যাইনি। ইউএনও কার্যালয়ের উচ্চমান সহকারী খাস কালেকশনের টাকা তুলেছেন।

এ বিষয়ে ইউএনও কার্যালয়ের উচ্চমান সহকারী মো. শাহআলম বলেন, আমি ছোট চাকরি করি। ইউএনও স্যার যা বলেন, তাই করতে হয়েছে।

যোগাযোগ করা হলে পশুর হাট ইজারা কমিটির সদস্য সচিব উপজেলা প্রকৌশলী এবিএম খোরশেদ আলম বলেন, প্রতিযোগিতার অভাবে শিডিউল মূল্যায়ন করা হয়নি। তবে আমরা শুধু শিডিউল মূল্যায়নের কাজ করি। বাকি সব করেন ইউএনও।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক ড. মুহাম্মদ মোশাররফ হোসেন বলেন, বাঞ্ছারামপুরে দরপত্র ছাড়াই ইজারা দেওয়া হয়েছে কি না বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখব।
প্রতিবেদন :: মাসুক হৃদয়

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

Shares