সরকারি স্কুলে অনলাইনে আবেদন ও ফি বাড়ানো উদ্যোগ

0 0

এক্সক্লুসিভ: আগামী ২০১৫ সাল থেকে রাজধানীর ২৪টি সরকারি মাধ্যমিক স্কুলের ভর্তির ক্ষেত্রে অনলাইনে আবেদন ও ভর্তি ফি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর (মাউশি)। এ লৰ্যে চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহেই মাউশির পক্ষ থেকে শিৰা মন্ত্রণালয়ের কাছে অনুমোদন চাওয়া হয়েছে। এ প্রেৰিতে ভর্তির নীতিমালা চূড়ান্ত করতে আগামী সপ্তাহেই বৈঠকে বসবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, মাউশির প্রস্তাব অনুযায়ী ২০১৫ শিক্ষাবর্ষে রাজধানীর ২৪টি সরকারি স্কুলে ভর্তির ৰেত্রে শিক্ষার্থীদের অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আর ভর্তি ফরমের মূল্য পরিশোধ করতে হবে সরকারি মালিকানাধীন মোবাইল কোম্পানি টেলিটকের মাধ্যমে। একই সাথে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও অনলাইনে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশনা চেয়েছে মাউশি। আর ২০১৫ শিক্ষাবর্ষে মাধ্যমিক স্কুলে ভর্তি ৰেত্রে এসব নিয়ম রেখেই মাউশির পক্ষ থেকে ভর্তি নীতিমালা চূড়ান্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে। মাউশির প্রস্তাবের প্রেৰিতে আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝি এ বিষয়ে বৈঠক ডেকেছে শিৰা মন্ত্রণালয়। ওই বৈঠকেই ভর্তিও তারিখ ও অন্যান্য বিষয়সহ মাউশির সুপারিশগুলো ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
সূত্র জানায়, সরকারি স্কুলের ভর্তি ফি ও ফরমের মূল্য বাড়ানোর ক্ষেত্রে মাউশির পৰ থেকে যুক্তি দেখানো হয়েছে- দীর্ঘদিন ধরেই সরকারি স্কুলগুলোতে ভর্তি ফি ও ফরমের মূল্য একই রাখা হচ্ছে। অথচ বেসরকারি স্কুলগুলোতে প্রতি বছরই ফি ও ফরমের মূল্য বাড়ানো হচ্ছে। তাছাড়া মানুষের ক্রয়ৰমতা বৃদ্ধি এবং শিৰা উপকরণের মূল্যবৃদ্ধির কারণে যৌক্তিক আকারে ভর্তি ফি ও ফরমের মূল্য বাড়ানো প্রয়োজন। তবে এৰেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন লাগবে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়া গেলেই সরকারি স্কুলগুলোতে ভর্তি ফি ও ফরমের মূল্য বাড়ানো হবে। মাউশির পক্ষ থেকে রাজধানীর সরকারি মাধ্যমিক স্কুলগুলো ভর্তি ফি ও ফরমের মূল্য বাড়ানোর কথা বলা হলেও তা মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিলে সারাদেশের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়েই তা বাড়বে। যদিও গত কয়েক বছর ধরেই ভর্তি ফরমের মূল্য ১শ টাকা রাখা হচ্ছে।
সূত্র আরো জানায়, রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অবসি’ত ২৪টি সরকারি মাধ্যমিক স্কুলকে এলাকাভিত্তিক ক, খ ও গ- তিন গ্র্বপে ভাগ করা হবে। তবে এলাকা অনুযায়ী এবার ঢাকার নতুন ৫টি সরকারি স্কুলকে বিভিন্ন গ্র্বপে বন্টন করা হবে। নতুন এ ৫টি সরকারি স্কুল হচ্ছে আজিমপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, হাজারীবাগ শেষ রাসেল সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মিরপুরের দুয়ারীপাড়া সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ডেমরার আলহাজ হাজী গফুর সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং উত্তরখানের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়। তবে এখন থেকে কেউই একই গুচ্ছের একাধিক স্কুল থেকে ভর্তি ফরম কেউ কিনতে পারবেন না। অবশ্য একজন শিৰার্থী ৩টি গুচ্ছের প্রতিটি থেকে একটি করে সর্বোচ্চ ৩টি ফরম কিনতে পারবে। আর শিৰার্থী যে স্কুলে ভর্তি হতে আগ্রহী সেখান থেকেই ফরম কিনতে হবে।
এদিকে নতুন শিক্ষাবর্ষে দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণীতে গতবছরে মতোই শিৰার্থীদের ৫০ নম্বরের এক ঘন্টার ভর্তি পরীক্ষা নেয়া হবে। ৪র্থ থেকে ৮ম শেণীতে ১শ নম্বরের ২ ঘন্টার পরীৰা হবে। আর জেএসসি ও জেডিসি পরীৰার ফলের ভিত্তিতে ৯ম শ্রেণীতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণীতে বাংলা ১৫, ইংরেজি ১৫ ও গণিতে ২০ নম্বর করে মোট ৫০ নম্বরের এক ঘন্টার এবং অন্য শ্রেণীতে বাংলা ৩০, ইংরেজি ৩০ ও গণিতে ৪০ নম্বর করে মোট ১শ নম্বরের ২ ঘন্টার পরীৰা নেয়া হবে।
অন্যদিকে রাজধানীতে ক গ্রুপের সরকারি মাধ্যমিক স্কুলগুলো হচ্ছে গভ. ল্যাবরেটরি হাই স্কুল, নিউ গভর্মেন্ট গার্লস হাই স্কুল, ইসলামিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, মিরপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, মতিঝিল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, খিলগাঁও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, মোহাম্মদপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও নবাবপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। খ গ্রুপের স্কুলগুলো হচ্ছে মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়, নারিন্দা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, শেরেবাংলানগর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি বিজ্ঞান কলেজ সংযুক্ত হাই স্কুল, গভ. মুসলিম হাই স্কুল, বাংলাবাজার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ধানমন্ডি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও ধানমন্ডি কামর্বন্নেসা সরকারি বালিকা বিদ্যালয়। গ গ্রুপের স্কুলগুলো হচ্ছে ধানমন্ডি গভ. বয়েজ হাই স্কুল, টিকাটুলি কামর্বন্নেসা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, তেজগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল, আরমানীটোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, শেরেবাংলা নগর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, গণভবন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও তেজগাঁও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। এসব স্কুলের মধ্যে ১৩টিতে প্রথম শ্রেণী রয়েছে। ৩ ক্যাটাগরির এই স্কুলগুলোতে একই দিনে লটারি করা হবে। আগামী ১৪ ডিসেম্বও এ লটারি অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রাজধানীর সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি ফি বাড়ানো প্রসঙ্গে মাউশির মহাপরিচারক অধ্যাপিকা ফাহিমা খাতুন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের আগে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে মাউশির প্রস্তাবিত নীতিমালা চূড়ান্ত হলেই এ বিষয়ে জানা যাবে বলে জানান তিনি।

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

Shares