বিলাসিতা/বৈরাগ্য, কৃপণতা/অপচয় নয়; মধ্যপন্থা অবলম্বনই শ্রেয়-

0 1

ইসলামে বিলাসিতা কিংবা বৈরাগ্য যেমন কাম্য নয়, তেমনি কৃপণতা ও অপচয় করতেও নিষেধ করা হয়েছে। শাশ্বত ও ভারসাম্যপূর্ণ জীবনবিধান হিসেবে ইসলাম মূলত মধ্যপন্থা অবলম্বনের শিক্ষাই দেয়-

আল-কোরআনে মহান আল্লাহতায়ালা বিশ্বাসীদের উদ্দেশ্যে বলেন-
সূরা আশ-শো’আরা (মক্কায় অবতীর্ণ)
(২৬:২০৫) অর্থ- আপনি ভেবে দেখুন তো, যদি আমি তাদেরকে বছরের পর বছর ভোগ-বিলাস করতে দেই,
(২৬:২০৬) অর্থ- অতঃপর যে বিষয়ে তাদেরকে সতর্ক করা হয়েছিল, তা তাদের নিকট এসে পড়ে।
(২৬:২০৭) অর্থ- তখন তাদের ভোগ বিলাসের উপকরণ কি তাদের কোন উপকারে আসবে?

সূরা মুহাম্মদ (মদীনায় অবতীর্ণ)
(৪৭:১২) অর্থ- যারা বিশ্বাস করে ও সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদেরকে জান্নাতে দাখিল করবেন, যার নিম্নদেশে নির্ঝরিণীসমূহ প্রবাহিত হয়। আর যারা অবিশ্বাসী, তারা কেবলই ভোগ-বিলাসে মত্ত থাকে এবং চতুস্পদ জন্তুর মত আহার করে। তাদের বাসস্থান জাহান্নাম।

সূরা আল হাদীদ (মদীনায় অবতীর্ণ)
(৫৭:২৬) অর্থ- আমি নূহ ও ইব্রাহীমকে রসূলরূপে প্রেরণ করেছি এবং তাদের বংশধরের মধ্যে নবুওয়ত ও কিতাব অব্যাহত রেখেছি। অতঃপর তাদের কতক সৎপথপ্রাপ্ত হয়েছে এবং অধিকাংশই হয়েছে পাপাচারী।
(৫৭:২৭) অর্থ- অতঃপর আমি তাদের পশ্চাতে প্রেরণ করেছি আমার রসূলগণকে এবং তাদের অনুগামী করেছি মরিয়ম তনয় ঈসাকে ও তাকে দিয়েছি ইঞ্জিল। আমি তার অনুসারীদের অন্তরে দান করেছিলাম নম্রতা ও দয়া। আর বৈরাগ্য– তারা নিজেরাই এটি উদ্ভাবন করেছে; আমি এটা তাদের উপর ফরজ করিনি; শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা, কিন্তু তারা তা পালন করেনি যেমনটি তারা পালনের যোগ্য ছিল। তাদের মধ্যে যারা বিশ্বাসী ছিল, আমি তাদেরকে তাদের প্রাপ্য পুরস্কার দিয়েছি। আর তাদের অধিকাংশই পাপাচারী।

সূরা আন নিসা (মদীনায় অবতীর্ণ)
(০৪:৩৬) অর্থ- আর আল্লাহর উপাসনা কর, তাঁর সাথে অপর কাউকে শরীক করো না। পিতা-মাতার সাথে সৎ ও সদয় ব্যবহার কর এবং নিকটাত্নীয়, এতীম-মিসকীন, প্রতিবেশী, অসহায় পথচারী এবং ডান হাতের অধিকারভুক্ত যুদ্ধবন্দী/দাস-দাসীর প্রতিও। নিশ্চয়ই আল্লাহ ভালবাসেন না তাকে যে দাম্ভিক, গর্বিত,—
(০৪:৩৭) অর্থ- যারা নিজেরা কার্পণ্য করে এবং অন্যকেও কৃপণতা শিক্ষা দেয় আর গোপন করে সে সব বিষয় যা আল্লাহতায়ালা স্বীয় অনুগ্রহে তাদেরকে দান করেছেন। আর অবিশ্বাসীদের জন্য আমরা তৈরী করে রেখেছি অপমানকর শাস্তি।
(০৪:৩৮) অর্থ- আর যারা স্বীয় ধন-সম্পদ ব্যয় করে লোক-দেখানোর উদ্দেশে এবং যারা আল্লাহর উপর ঈমান আনে না, ঈমান আনে না কেয়ামত দিবসের প্রতি এবং শয়তান যার সাথী হয়, সে কত নিকৃষ্টতর সাথী!

সূরা আল আ’রাফ (মক্কায় অবতীর্ণ)
(০৭:৩১) অর্থ- হে আদম সন্তানেরা! তোমরা প্রত্যেক নামাজের সময় বেশ-ভুষা পরিধান করে নাও, খাও ও পান কর, কিন্তু অপচয় করো না। নিঃসন্দেহে তিনি অমিতব্যয়ীদের পছন্দ করেন না।

সূরা বনী ইসরাঈল (মক্কায় অবতীর্ণ)
(১৭:২৬) অর্থ- নিকটাত্মীয়কে তার প্রাপ্য দাও এবং অভাবগ্রস্তকে ও অসহায় পথচারীকেও। আর কিছুতেই অপব্যয় করো না।
(১৭:২৭) অর্থ- নিশ্চয় অপব্যয়ীরা হচ্ছে শয়তানের ভাই-বিরাদর। আর শয়তান স্বীয় পালনকর্তার প্রতি অতিশয় অকৃতজ্ঞ।
(১৭:২৮) অর্থ- আর তোমার পালনকর্তার করুণা প্রত্যাশায় অপেক্ষামান থাকাকালে যদি কোন সময় তাদেরকে বিমুখ করতে হয়, তখন তাদের সাথে সদয় ভাবে কথা বল।
……………………………………..
(১৭:২৯) অর্থ- তুমি একেবারে ব্যয়কুন্ঠ/বদ্ধমুষ্ঠি হয়ো না এবং একেবারে মুক্ত হস্তও হয়ো না। তাহলে তুমি তিরস্কৃত, নিঃস্ব হয়ে বসে থাকবে।
(১৭:৩০) অর্থ- নিশ্চয় তোমার পালনকর্তা যাকে ইচ্ছা অধিক জীবনোপকরণ দান করেন, আবার যাকে ইচ্ছা মাপজোখ কোরেও দেন। নিঃসন্দেহে তিনি তাঁর বান্দাদের সম্পর্কে সর্বজ্ঞ, সর্বদ্রষ্টা।

সূরা আল-ফুরকান (মক্কায় অবতীর্ণ)
(২৫:৬৩) অর্থ- আর পরমকরুণাময়ের বান্দা তারাই, যারা পৃথিবীতে নম্রভাবে চলাফেরা করে এবং তাদের সাথে যখন অজ্ঞরা কথা বলতে থাকে, তখন তারা বলে- ‘সালাম’।
(২৫:৬৭) অর্থ- এবং তারা যখন ব্যয় করে, তখন অপচয় করে না আর কার্পণ্যও করে না, বরং তাদের পন্থা হয় এ দুয়ের মধ্যবর্তী।

সূরা আল ইমরান (মদীনায় অবতীর্ণ)
(০৩:১৮০) অর্থ- আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে যা দান করেছেন তাতে যারা কৃপণতা করে, তা তাদের জন্য মঙ্গলকর হবে বলে যেন তারা ধারণা না করে। বরং তা একান্তই ক্ষতিকর প্রতিপন্ন হবে। যা নিয়ে তারা কঞ্জুসি করে তা কিয়ামতের দিন তাদের গলায় বেড়ী বানিয়ে পরানো হবে। আর আল্লাহ হচ্ছেন আকাশমন্ডল ও যমীনের পরম সত্ত্বাধিকারী। আর যা কিছু তোমরা কর; আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্মক অবগত।

সূরা আত তাওবাহ (মদীনায় অবতীর্ণ)
(০৯:৩৪) অর্থ- হে ঈমানদারগণ! পন্ডিত ও সংসারবিরাগীদের মধ্যে যারা লোকদের মালামাল অন্যায়ভাবে গ্রাস করে এবং আল্লাহর পথ থেকে লোকদের ফিরিয়ে রাখে, আর স্বর্ণ ও রূপা জমা করে রাখে এবং তা ব্যয় করে না আল্লাহর পথে, তাদের কঠোর শাস্তির সংবাদ শুনিয়ে দিন।

সূরা আত-তাগাবুন (মদীনায় অবতীর্ণ)
(৬৪:১৬) অর্থ- অতএব তোমরা যথাসাধ্য আল্লাহকে ভয় কর, আর শুন, আনুগত্য কর এবং ব্যয় কর। এটা তোমাদের জন্যে কল্যাণকর। যারা মনের কার্পণ্য থেকে মুক্ত, তারাই সফলকাম।

সূরা আল মা’আরিজ (মক্কায় অবতীর্ণ)
(৭০:১৯) অর্থ- মানুষ তো সৃজিত হয়েছে অস্থির চিত্ত রূপে।
(৭০:২০) অর্থ- যখন তাকে অনিষ্ট স্পর্শ করে, তখন হা-হুতাশ করে।
(৭০:২১) অর্থ- আর যখন সচ্ছলতা প্রাপ্ত হয়, তখন কৃপণ হয়ে যায়।

সূরা আল লায়ল (মক্কায় অবতীর্ণ)
(৯২:০৫) অর্থ- অতএব, যে দান করে এবং ধর্মভীরু হয়,
(৯২:০৬) অর্থ-এবং উত্তম বিষয়কে সত্য মনে করে,
(৯২:০৭) অর্থ-আমি তার জন্য সুখকর পথ সহজ করে দেব।
(৯২:০৮) অর্থ-আর যে কৃপণতা করে ও বেপরোয়া হয়
(৯২:০৯) অর্থ- এবং উত্তম বিষয়কে মিথ্যা মনে করে,
(৯২:১০) অর্থ- আমি তার জন্য কষ্টকর পথ সহজ করে দেব।
(৯২:১১) অর্থ-যখন সে অধঃপতিত হবে, তখন তার সম্পদ কোনই কাজে আসবে না।

সূরা হুমাযাহ্ (মক্কায় অবতীর্ণ)
(১০৪:০১) অর্থ- দুর্ভোগ প্রত্যেকের যে পশ্চাতে ও সম্মুখে লোকের নিন্দা করে;
(১০৪:০২) অর্থ- যে অর্থ পুঞ্জিভূত করে রাখে এবং তা বার বার গননা করে,
(১০৪:০৩) অর্থ- সে ধারনা করে যে তার অর্থ তাকে অমর করে রাখবে;
(১০৪:০১) অর্থ- কখনো না, সে অবশ্যই নিক্ষিপ্ত হবে হুতামায়;

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

Shares