শোক সভাকে কেন্দ্র করে সরাইলে বিএনপির দু’গ্রুপের সংঘর্ষে আহত-১০

0 0

সরাইল প্রতিনিধিঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে বিএনপির কোষাধ্যক্ষ প্রয়াত নেতা আইয়ুব খানের শোক সভাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ শোক সভাকে ঘিরে আবদুস সাত্তার ও আবদুর রহমানের সমর্থকরা ছিল দুইভাগে বিভক্ত। গত শনিবার বিকেলে ও দুই গ্রুপ সংঘর্ষে মেতেছিল। পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দিয়েছিল। গত দুইদিন ধরে ওই সভাকে কেন্দ্র দুটি গ্রুপের কর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছিল টানটান উত্তেজনা। প্রশাসনেও ছিল দৌড়ঝাঁপ। পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্র জানায়, গতকাল শুক্রবার বাদ আছর উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের শেখ আশ্রাফ উচ্চ বিদ্যায়লয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয় শোক সভা। নোয়াগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান ও বিএনপি’র সভাপতি আবু মুছা উসমানী মাসুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত শোক সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও জেলা বিএনপি’র সভাপতি উকিল আবদুস সাত্তার ভ’ঁইয়া। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি নেতা আকতার হোসেন, ড. আজিজ, উপজেলা বিএনপি’র সম্পাদক মোঃ আনোয়ার হোসেন মাষ্টার, বিএনপি নেতা মোঃ আনিছুল ইসলাম ঠাকুর ও উপজেলা শ্রমিক দলের সম্পাদক ডি এম আলী দুলাল। সভার শেষের দিকে ৮-১০ জন যুবক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলার উদ্যেশ্যে এগিয়ে আসে। তাদের প্রতিহত করার জন্য সভাস্থল থেকে একদল যুবক ধাওয়া করে। এ সময় দলীয় নেতারা কর্মীদের সহায়তায় নিরাপদ স্থলে চলে যায়। দুই গ্রুপের মধ্যে চলে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ। এ সভাকে কেন্দ্র করে গত বৃহস্পতিবার বিকেলেও দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। উভয় দিনের সংঘর্ষে লায়ন কানন (৩৫) ও ছোয়াব মিয়া (৩০) সহ অন্তত দশজন আহত হয়েছে। ভাংচুর করা হয়েছে ছোয়াবের বসত ঘর। আনোয়ার হোসেন মাষ্টার বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণ ভাবে শোক সভা শেষ করেছি। সভাপতি আবদুর রহমান সভায় আসেননি। শেষের দিকে কিছু উশৃঙ্খল যুবক দৌড়াদৌড়ি করেছে। লায়ন কানন বলেন, দলের সকল নেতা কর্মীর অংশ গ্রহনের মাধ্যমে শোক সভাটি করার চেষ্টা করেছিলাম। একটি গ্রুপ নিজেদেরকে প্রাধান্য দিতে উঠে পড়ে লেগেছে। তাই আমরা বাঁধা দিয়েছি। বিএনপি কর্মী ছোয়াব বলেন, বলেছিলাম গ্রুপিং করে সভা করতে দিব না। তাই দেয়নি। শ্রমিক দল নেতা দুলাল বলেন, সভার শেষের দিকে কয়েকজন যুবক সভাকে লক্ষ্য করে ঢিল ছুড়েছে। সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আলী আরশাদ বলেন, উভয় গ্রুপের মধ্যে ঢিল ছুড়াছুড়ির ঘটনা ঘটেছে। খবর পাওয়া মাত্র পুলিশ পাঠিয়েছি। হতাহতের কোন ঘটনা ঘটেনি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ এমরান হোসেন বলেন, দুইদিন ধরে উভয় গ্রুপের লোকজনের কাছ থেকে ফোন আসতেছিল। তাই দুপুর বেলা (শুক্রবার) স্থানীয় চেয়ারম্যানকে ডেকে এনে কোন ধরনের সংঘাত হলে দায় দায়িত্ব তাকে বহন করতে হবে জানিয়ে দিয়েছিলাম।

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

Shares