রত্না হত্যা মামলার আসামী বোরহান গ্রেপ্তার :: ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তি

0 0

মোহাম্মদ মাসুদ, সরাইল প্রতিনিধিঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে বসত বাড়িতে ডাকাতিকালে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নিহত কলেজ ছাত্রী রত্না হত্যার অন্যতম আসামী (সন্দেহভাজন) বোরহানকে (১৮) গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। গত মঙ্গলবার ভোরে ডিবি’র অফিসার ইনচার্জ মঈনুর রহমান ও এস আই আবু বকর সিদ্দিকের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে ইসলামাবাদ গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ডিবি’র জিজ্ঞাসাবাদ ও আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ডাকাতি ও হত্যাকান্ড সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে ডাকাত বোরহান।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশ  ও আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ নভেম্বর বৃহস্পতিবার জটিল এ মামলার তদন্তের দায়িত্ব পায় ডিবি। ওইদিনই ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে বাদী সহ একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা বলেন ডিবি’র ওসি মঈনুর রহমান ও এস আই সিদ্দিক। পরে এ ঘটনাটি নিয়ে গোপনে কাজ করতে থাকেন তারা। ডাকাতি ও কিলিং মিশনে জড়িত ২-৩ জনকে সনাক্ত করতে সক্ষম হন ডিবি পুলিশ। এর পরই তারা গ্রেপ্তার করেন ওয়াহেদ মিয়ার ছেলে বোরহানকে। বোরহান ডাকাতি ও কিলিং মিশনে থাকার কথা অকপটে স্বীকার করেছে। বোরহান জানিয়েছে বর্তমানে জেলহাজতে থাকা তারেক, বাŸলু ও মেহেদীর এ ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার কথা। মূল পরিকল্পনাকারীই হচ্ছে তারা তিনজন। ঘটনার রাতে গ্রামের পূর্ব পাড়া খোরশেদ মিয়ার মার্কেটে বাবলুর চায়ের দোকানে বসে হয় পরিকল্পনা। গভীর রাত। বোরহান তখন বাড়ির পুকুরের পাড় বসা ছিল। তাকে খবর দিয়ে নেয়া হয় পরিকল্পনা সভায়। সেখানে গিয়ে বোরহান গ্রামের ৫-৬ জনের সাথে অপরিচিত আরো ৫-৬ জন যুবককে দেখতে পায়। এক যুবক দৌড়ে গিয়ে বাড়ি থেকে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আসে। বাবলু হাতে নেয় রামদা। পরিকল্পনা সভা শেষ করে হামলার প্রস্তুতি শেষে দশ মিনিটের মধ্যে পুরো গ্র“পটি চলে যায় উসমান ও জসিমদের বাড়িতে। তারেক বাবলু মেহেদী সহ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে উঠানে দাঁড়িয়ে থাকে। অন্যরা ছাদের উপর দিয়ে গিয়ে মূল ভবনে প্রবেশ করে। এ সময় কলেজ ছাত্রী রতœা বদনা নিয়ে বের হয়। একই সাথে বের হয় রতœার বাবা ও চাচাত ভাই। রতœা ডাকাত ডাকাত বলে জোরে চিৎকার দেয়। এক ডাকাত তখন রড দিয়ে রত্নার মাথায় আঘাত করে। মাটিতে লুটিয়ে পড়ে রত্না। দাঁড়ানোর চেষ্টাকালে বাবলু রাম দা দিয়ে রত্নার মাথায় কয়েকটি কূপ মারে। রক্ত ছিটকে এসে কয়েকজনের কাপড়ে পড়ে। কিলিং মিশন শেষ করে তারা বাড়ির পাশের ধানের জমির উপর দিয়ে সটকে পড়ে। সকালে উঠে শুনে তিনজন হাসপাতালে ও কলেজ ছাত্রীটি মারা গেছে। গত মঙ্গলবার বিকেলে বোরহান এমন সব চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মুনিরা সুলতানার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। ওদিকে এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ঘটনার পরের দিন গ্রেপ্তার হওয়া তারেক বাবলু ও মেহেদীর দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছিল। রিমান্ড মঞ্জুর হওয়ার পরই থানায় দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন ইসলামী ঐক্যজোট নেতা ও নোয়াগাঁও ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মনসুর আহমেদ। কথা রেখেছেন থানা পুলিশ। সফল হয়েছেন ওই নেতা। রিমান্ডের নামে জামাই আদর শেষ করে গত ২৮ তারিখ তিন আসামীকে পাঠানো হয়েছে জেলহাজতে। মামলার বাদী ও নিহত রত্নার পিতা উসমান উদ্দিন জানান, এ ঘটনায় জড়িত অধিকাংশ যুবকের চাচা ও স্বজনরা গ্রাম্য মাতাব্বর। তারা গ্রামের বিভিন্ন অপকর্মের মদদ দিয়ে থাকেন। মহাসড়কের ডাকাতদের সাথেও রয়েছে তাদের সহ্যতা। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মঈনুর রহমান বলেন, লোমহর্ষক এ ঘটনার সাথে জড়িতদের আমরা দ্রুতই আইনের আওতায় নিয়ে আসব। প্রসঙ্গতঃ গত ১৪ নভেম্বর শুক্রবার গভীর রাতে বসত বাড়িতে ডাকাতি কালে ডাকাতদের হামলায় খুন হয় কলেজ ছাত্রী রত্না। গুরুতর আহত হয় রত্নার পিতা উসমান ও চাচাত ভাই ইয়াছিন।

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

Shares