সরাইলে পুলিশ পরিচয়ে বসত বাড়িতে ডাকাতি

0 0

সরাইল প্রতিনিধিঃব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে পুলিশ পরিচয় দিয়ে চারটি বসত বাড়িতে ডাকাতি হয়েছে। একই রাতে উপজেলা সদরের  সরাইল-নাসিরনগর সড়কের পাঠান পাড়া এলাকায় অটোরিকশায় ও ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।
সরজমিনে গিয়ে ডাকাতের কবলে পড়া লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, রাত তিনটার দিকে সরাইল-নাসিরনগর সড়কের পাশে সরাইল সদর ইউনিয়নের উচালিয়া পাড়া গ্রামের পূর্ব পাড়ায় সেন্টু মিয়া (৩৮), বাছির মিয়া (৫০), চান বাদশা (৫৫) ও বিরাশ মিয়ার (৬০) বসত বাড়িতে একই সময়ে পুলিশ পরিচয় দিয়ে প্রবেশ করে মুখোশধারী একদল ডাকাত। ডাকাতরা রামদা চাপাতি ও ছুড়ার ভয় দেখিয়ে প্রথমে বাড়ির লোকজনকে জিম্মি করে ফেলে। দুইজন মহিলার চোখ বেঁধে ফেলে। পরে নগদ টাকা, ছয়টি মুঠোফোন সেট ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নিয়ে যায়। ডাকাতরা সেন্টু মিয়ার মেয়ে উচালিয়া পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী সাদিয়া ছালাম এনি (১১) ও বাছিরের স্ত্রী শাহেনা বেগম (৪৫) কে মারধর করে। গৃহকর্তী রুনা আহমেদ (৩২) বলেন, পুলিশের পরিচয় দিয়ে বাহির থেকে আওয়াজ করতে থাকলে গেইট খুলে দেয়। ভিতরে ঢুকে তারা আমার চোখ বেঁধে গলায় রামদা ধরে বলে “শব্দ করলে জবাই করে ফেলব”। যাওয়ার সময় ফজরের আগে কাউকে জানালে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে যায়। গেইটের বাহিরের দিকে ডাকাতরা তালা দিয়ে চলে যায়। গৃহকর্তা চান বাদশা বলেন, হেরা পইল্লা আইয়া কয় আমরা আইনের লোক। দরজা হুইল্লা দিলাম। দেহি তারা হগলের আত দা। ভিতরে আইয়া যা নেওনের নিয়া গেল। ওদিকে সরাইল কলেজ পাড়ার বাসিন্ধা তিন  ব্যবসায়ি সাত্তার (৩৫), নারায়ণ (৪০) ও প্রদীপ দাস (৪১) রাত সোয়া ১টায় বিশ্বরোড মোড় থেকে কালিকচ্ছের উদ্যেশ্যে রওয়ানা দেয়। ওই সড়কের পাঠান পাড়া এলাকায় আসার পর টর্চ লাইটের আলো দিয়ে অতর্কিতে যাত্রীবাহী সিএনজি অটোরিকশাটি আটক করে মুখোশধারী সংঘবদ্ধ একদল ডাকাত। তারা দেশীয় অস্ত্রের মুখে যাত্রীদের জিম্মি করে ফেলে। পরে তাদের কাছ থেকে নগদ ৭০ হাজার টাকা, তিনটি স্বর্ণের আংটি, দেড় ভরি ওজনের একটি চেইন ও তিনটি মুঠোফোন সেট ছিনিয়ে নেয় ডাকাতরা। এ সময় ডাকাতের পিটুনিতে আহত হয় নারায়ণ। তাকে স্থানীয় মনোয়ারা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগীরা জানায়, ঘটনার পরই তারা স্থানীয় সংসদ সদস্যেকে বিষয়টি অবহিত করেন। এমপি’র সহায়তায় তারা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার শরনাপন্ন হলে ছিনিয়ে নেওয়া টাকা ও জিনিষ পত্র তিন দিনের মধ্যে উদ্ধার করে দেওয়ার আশ্বাস দেন ওসি। স্থানীয় সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা বলেন, সড়কে ডাকাতির কবলে পড়া দুইজন আমার কাছে এসেছিল। আমি থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেছি। সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আলী আরশাদ বলেন, পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতি করা তো দূরের কথা ডাকাতির ঘটনাই ভিত্তিহীন। আমরা ডাকাতিরোধে নিরলস ভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি।

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

Shares