আবারো বেপরোয়া সরাইলের বিশ্বরোড মোড়ে অবৈধ দখলদাররা

0 0

প্রতিনিধি : সরাইলের বিশ্বরোড মোড়ে আবারও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে প্রভাবশালী অবৈধ দখলদাররা। সড়ক ও জনপথের (সওজ) জায়গা দখল করে মোটা অংকের টাকা কামায় করছে একটি সিন্ডিকেট। শোষন করছে দরিদ্র ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের। জন সাধারনের চলাচলে তৈরী হচ্ছে প্রতিবন্ধকতা। লোক দেখানো ব্যবসার অন্তরালে চলছে মাদক ও নারীর রমরমা ব্যবসা। বাড়ছে চুরি ছিনতাই সহ নানান অপরাধ প্রবনতা। মোড়ের তিন দিকেই সিএনজি অটোরিকক্সা ও টেম্পু চালকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করছে কতিপয় নামধারী শ্রমিক নেতা। দখল ও চাঁদার ভাগকে কেন্দ্র করে নিয়মিত হচ্ছে সংঘর্ষ। ঘটছে আহত ও নিহতের ঘটনা। অথচ উচ্ছেদের সাত মাস পরই সংশ্লিষ্ঠ্য দফতরের অসৎ কিছু লোককে ম্যানেজ করেই ফের দখল বাণিজ্য জোরদার করেছে প্রভাবশালীরা। এমন অভিযোগ পথচারী ও সাধারন ব্যবসায়ীদের। টেম্পু ও সিএনজি’র ষ্ট্যান্ডের জায়গা দখল করে বসিয়েছে বাজার। স্থানীয় প্রভাবশালীরা আদায় করছে বখরা। মহাসড়কে সর্বক্ষন থাকে যানজট। দূর্ভোগ পোহাচ্ছে পথচারী ও সাধারন জনগন।

ভুক্তভোগী পথচারী ও স্থানীয় লোকজন জানায়, দীর্ঘ তিন যুগ প্রতিক্ষার পর গত ৯ এপ্রিল সোমবার সরাইলের বিশ্বরোড মোড়ে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চলেছে উচ্ছেদ অভিযান। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট হেলাল মাহমুদ শরীফের নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযানে সহায়তা করেন সড়ক ও জনপথের কর্মকর্তা এবং রিজার্ভ পুলিশের একটি দল। অভিযানে বিশ্বরোড মোড়ে সড়কের দুপাশের  শতাধিক অবৈধ কাঁচা, আঁধা পাকা ও পাকা  ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান ঘুড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসন। কয়েক কোটি টাকার জায়গা দখলদার চাঁদাবাজদের কবল থেকে উদ্ধার করেছিল প্রশাসন।  বিশ্বরোডের আশপাশের এলাকার কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তি পেশী শক্তির বলে সওজের জায়গা দখল করে। পরে সেই জায়গায় নিরীহ খেঁটে খাওয়া লোকজন দিয়ে তাদের খরচে দোকানঘর নির্মান করান। আর জায়গার ভাড়া নেন প্রতি দোকান দৈনিক ২ শত টাকা। এভাবে তারা ১০/১২ বছর যাবৎ গরীব লোকদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি করছেন। সুযোগে কিছু লোক তাদের দোকান ঘর টিন ও দেওযাল দিয়ে সওজের জায়গায় নিয়ে আসছেন।

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, উচ্ছেদ অভিযানের পর কিছু দিন মহাসড়কের দু’পাশ ছিল পরিস্কার পরিচ্ছন্ন। গাড়ী চালক ও পথচারীরা ছিল দারুন স্বস্থিতে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বিশ্বরোড মোড়ে ফের বেপরোয়া প্রভাবশালী দখলদাররা। নতুন করে প্রভাবশালী দখলদাররা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে। মহাসড়কের আশপাশ অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠায় দূর্ঘটনা সহ অপরাধ কর্মকান্ড প্রতিনিয়ত হচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট বিভাগের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে বিশ্বরোড এলাকায় এ অবৈধ দখল চলছে এমন অভিযোগও রয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার অবহিত করার পরও অদৃশ্য কারণে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না কর্তাব্যক্তিরা। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে জনমনে নানা প্রশ্ন উঠেছে বলে স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতারা জানান। আগের কুতুবরাই দোকান বসিয়ে করছেন চাঁদাবাজি। তারা জানান, মহা সড়কের পশ্চিম পাশের দোকানের চাঁদা নিচ্ছেন খাটিহাতা গ্রামের রউফ মিয়া। মহাসড়কের পূর্ব পাশে মার্কেট সংলগ্ন স্থানটি সরকারি টাকায় পাকা করা হয়েছিল টেম্পু ও সিএজি ষ্ট্যন্ডের জন্য। ওই জায়গাটি অনেক পূর্বেই দখলে নেন বিশ্বরোড মোড় মসজিদের ঈমাম ও ইসলামি ঐক্যজোট নেতা মাওঃ বোরহান উদ্দিন । অর্ধশতাধিক অস্থায়ী দোকান থেকে সম্পূর্ণ অবৈধ ভাবে দীর্ঘদিন যাবৎ চাঁদা আদায় করছিলেন বোরহান উদ্দিন। তিনি বসিয়েছেন রিতিমত একটি বাজার। কিছু দিন বন্ধ ছিল। আবার পুরোপুরি চলছে দখল ও জমা উঠানোর বাণিজ্য। প্রতিদিন সকালে মহাসড়কের উপরে জবাই করা হয় গরু ও মহিষ। রক্ত পঁচে র্দূগন্ধ ছড়াই। সড়কের পাশেই রাখা হয় জবাইকৃত পশুর ময়লা। পথচারীদের চলতে হয় রুমাল দিয়ে নাক চেপে। শ্রমিক নেতা নামধারী কিছু ব্যক্তি সিএনজি ও টেম্পু থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করছেন।
সরজমিনে জানা যায়, ঢাকা-সিলেট ও কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের বিশ্বরোড মোড় এলাকায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গায় প্রায় অর্ধশতাধিক অবৈধ স্থাপনা (দোকান) গড়ে উঠেছে। শুধু তা-ই নয়, মহাসড়কের পশ্চিম পাশে সরকারী খাল দখলদার হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে না। ইরিগেশন (সবুজ প্রকল্প) প্রকল্পের পানি নিস্কাশনের কালভার্ট এর উপর মাটি ফেলে স্থানীয় আবদুর রউফ মার্কেটের রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, মাটির চাপে যেকোন সময় প্রকল্পের কালভার্টটি ভেঙ্গে পড়ে পানি নিস্কাশন বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ড্রেনের দেওয়াল সংলগ্ন স্থান থেকে মাটি কেটে সড়কে ফেলে দোকান করা হচ্ছে। পশ্চিম পাশের চা দোকানদার শিতু মিয়া জানান, নিজের টাকায় ঘর করেছি। প্রত্যেক দিন রউফ কে ১’শ টাকা দিতে হয়। ফল ব্যবসায়ী বিল্লাল মিয়া বলেন, আমার দুটি দোকানের জন্য রউফ ভাইকে দিতে হয় আড়াইশ টাকা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী বলেন, সত্য কথা বললে আমাদেরকে উঠিয়ে দিবে। জায়গা সরকারি। নিজেরা দোকান করেছি। তারা ফাঁকে টাকা কামায় করছেন। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আবদুর রউফ উত্তেজিত হয়ে বলেন, সিএন্ডবি’র পাশের জায়গা। সবাই দোকান করতেছে। তাই আমি ও করতাছি। টাকা নেয়া সম্পর্কে আমি কিছু জানি না। মাওলানা বোরহান উদ্দিন বলেন, আমার মানসম্মান নষ্ট করার জন্য একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে। আমি কারো কাছ থেকে টাকা নেয় না। আমার ভাড়াটিয়ারা আমাকে বলে তাদের দোকানের সামনে বসে ক্ষুদ্র ব্যবসা করছে। জেলা সড়ক ও জনপথের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী  মোঃ রবিউল আলম বলেন, আমাদের ওই জায়গা কাউকে লীজ দেয়নি। এরা জোর করেই দোকান বসিয়েছে। প্রত্যেক দিন তো অভিযান করা সম্ভব না। দ্রুতই ওই দোকান গুলো ভেঙ্গে দিব। উচ্ছেদ অভিযান পর্যায়ক্রমে চলবে।

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

Shares