সরাইলে ১০টি বসত ঘর আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছে প্রভাবশালীরা, ১০ পরিবার খোলা আকাশের নীচে

0 0

সরাইল  প্রতিনিধি ॥ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ১০টি বসত ঘর ও মালামাল আগুনে পুড়িয়ে ছাই করে দিয়েছে প্রভাবশালী লোকেরা। এতে দরিদ্র ১০ পরিবারের লোকজন এখন খোলা আকাশের নীচে মানবেতর জীবনযাপন করছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার গভীররাতে উপজেলার অরুয়াইল ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চল ধামাউড়া গ্রামে।

এলাকাবাসী জানান, সম্প্রতি গ্রামের দু’গোষ্টির সংঘর্ষে বল্লম বিদ্ধ বোরহান মিয়া চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৪ ফেব্রুয়ারী মারা যান। এ ঘটনায় ৩৪ ব্যক্তিকে আসামি করে থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়। পুরো এলাকা পুরুষ শূন্য হয়ে পড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের লোকজন জানান, বৃহস্পতিবার গভীররাতে গ্রামের মাসুম, ফায়েজ মিয়া, হামদু, অহিদ, বশির ও কামরুলের নেতৃত্বে একদল দূর্বৃত্ত প্রথমে হুমকি-ধমকি ও পরে বসত ঘরগুলোতে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। এতে ১০টি ঘর সহ মালামাল সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। বেশকিছু হাঁস-মোরগ ও ধান-চাল পুড়ে যায়।

শুক্রবার দুপুরে সরেজমিন দেখা ১০টি পরিবারের শিশু ও নারীরা খোলা আকাশের নীচে অনাহারে মানবেতর জীবন যাপন করছে। নারী ও শিশুদের আর্তচিৎকারে ভারী হয়ে উঠছে গ্রামের আকাশ বাতাস। পাঁচ সন্তানের জননী বিধবা সপজান বেগম পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়া বসত ঘরের ভিটে পড়ে আহাজারি করছে। অনেক নারী ডুকরে ডুকরে কাঁদছে। ফুলজান বেগম (৭৫), খুরশেদা বেগম (৪৮), আমিরুন নেছা (৪৬) সহ অনেকে অভিযোগ করে বলেন, পড়নের কাপড় নেই। খাবার নেই। শিশুরা ক্ষিধায় কাঁদছে। এ অবস্থায় কেউ আমাদের সাহায্যে এগিয়ে আসছে না। উল্টো আমাদেরকে এলাকা ছেড়ে যেতে প্রভাবশালীরা হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে প্রতিপক্ষের গোলাম মোস্তফা, জহিরুল ইসলাম, আরিফ জানান, হত্যা মামলাকে ভিন্নখাতে প্রভাবিত করতে  তারা নিজেরাই পরিকল্পিতভাবে বসত ঘরে আগুন দিয়েছে। এটা তাদের নেতা মোকারম হোসেন দরদীর ষড়যন্ত্র। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। আমি এখনও ওই এলাকায় যায়নি।

সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দিন বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

Shares