জাতীয় সংসদের উপ-নির্বাচনঃ-ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২- (সরাইল-আশুগঞ্জ)

0 3

আগামী ১ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২-(সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের উপ-নির্বাচন। গত ১১ ডিসেম্বর এই আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা উকিল আবদুস সাত্তার ভূইয়া পদত্যাগ করায় এই আসনটি শুন্য ঘোষনা করা হয়।

আসনটি শুন্য ঘোষনার পর পরই এলাকায় গণসংযোগ শুরু করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।

উপ-নির্বাচনে আসনটি মহাজোটকে ছেড়ে দেয়া হবে নাকি, আওয়ামীলীগ দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন দেয়া হবে এনিয়ে এলাকায় চলছে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা। তবে আওয়ামীলীগ নেতারা বলছেন ১৯৭৩ সালের পর থেকে এই আসনে নৌকার এমপি না থাকায় এলাকার কাঙ্খিত উন্নয়ন হয়নি। তাই তারা উপ-নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়ার দাবি জানান।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল ও আশুগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া দুই আসনটি। এর মধ্যে সরাইল উপজেলায় রয়েছে ৯টি ইউনিয়ন ও আশুগঞ্জ উপজেলায় রয়েছে ৮টি ইউনিয়ন। এই আসনে ভোট সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন লাখ।

নির্বাচনের তফসিল ঘোষনার পর জোরেশোরে মাঠে নেমেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রায় একজন প্রার্থী। তারা প্রতিদিনই দুই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে গনসংযোগ করছেন। উপ-নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন, এই আসনের সাবেক এমপি, জাতীয় পার্টির সাবেক কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক (বর্তমানে দল থেকে বহিষ্কৃত) অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা, জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুল বারী চৌধুরী মন্টু, গত জাতীয় নির্বাচনে এই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী, জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাবেক সহ-সভাপতি মঈন উদ্দিন মঈন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ আইন সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট কামরুজ্জামান আনসারী, সরাইল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকউদ্দিন ঠাকুর, সরাইল উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট নাজমুল হোসেন, আশুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী মোঃ ছফিউল্লাহ মিয়া, শহীদ বুদ্ধিজীবীর সন্তান ও সরাইল উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ তানবির হোসেন কাউছার, বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারি কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ শাহজাহান আলম সাজু, সরাইল উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আশরাফ উদ্দিন মন্তু, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল হামিদ ভাসানী। এছাড়াও আলোচনা আছে সরাইল উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য উম্মে ফাতেমা নাজমা বেগম ওরফে শিউলী আজাদও শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন চাইতে পারেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২-(সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনটি বিগত তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোটের শরীক দল জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেয়া হয়।

নবম ও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে এই আসন থেকে বিজয়ী হন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে মহাজোটের মনোনয়ন পান জাতীয় পার্টির অতিরিক্ত মহাসচিব ও অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধার জামাতা অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূইয়া। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে জিয়াউল হক মৃধাও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন। নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী উকিল আবদুস সাত্তার ভূইয়া অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী মঈন উদ্দিন মঈনকে সামান্য ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে জয়লাভ করেন।

আগামী ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য উপ-নির্বাচনে অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা প্রার্থী হয়েছেন। অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা বলেন, জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেত্রী রওশন এরশাদ ম্যাডামের নির্দেশে আমি প্রার্থী হয়েছি। ইতিমধ্যেই এলাকায় গনসংযোগ শুরু করেছি।

মাহাবুবুল বারী চৌধুরী মন্টুঃ- জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুল বারী চৌধুরী মন্টু গত মঙ্গলবার তিনি নিজ এলাকা শাহবাজপুর ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগনের সাথে এক মতবিনিময় সভার মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছেন। তিনি বলেন, ১৯৭৩ সালের পর থেকে এই আসনে আওয়ামীলীগের কোন এমপি নেই। তাই এই আসনে কাঙ্খিত উন্নয়ন হয়নি। দলীয় নেতা-কর্মীদের অনুরোধে আমি উপ-নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছি।

মঈন উদ্দিন মঈনঃ- জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাবেক সহ-সভাপতি মঈন উদ্দিন মঈন গত নির্বাচনে এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিএনপি প্রার্থী উকিল আবদুস সাত্তার ভূইয়ার কাছে সাড়ে ৮ হাজার ভোটের ব্যবধানে হেরে যান। আগামী উপ-নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনিও গন সংযোগ শুরু করেছেন। মঈন উদ্দিন মঈন বলেন, দলীয় নেতা-কর্মীদের অনুরোধে উপ-নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছি। তিনি বলেন, দল মনোনয়ন দিলে নির্বাচন করব ইনশাল্লাহ। তিনি কাঙ্খিত উন্নয়নের জন্য আওয়ামীলীগের প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়ার জন্য দাবি জানান।

অ্যাডভোকেটে কামরুজ্জামান আনসারীঃ– বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ আইন সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট কামরুজ্জামান আনসারী গত নির্বাচনেও দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন। তিনি বলেন, আমি গত ৮ বছর ধরে মাঠে আছি, উপ-নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন চাইব।

অ্যাডভোকেট সৈয়দ তানবির হোসেন কাউছারঃ- শহীদ বুদ্ধিজীবী ও আওয়ামীলীগ নেতা অ্যাডভোকেট সৈয়দ আকবর হোসেন বকুল মিয়ার সন্তান। তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে আমার বাবা অ্যাডভোকেট সৈয়দ আকবর হোসেন বকুল মিয়া ও চাচা সৈয়দ আফজল হোসেনও শহীদ হয়েছেন। শহীদ বুদ্ধিজীবী হিসেবে আমার বাবার নাম গেজেটভুক্ত। শিশু বয়সে আমি ও আমার বোনেরা বাবার স্নেহ থেকে বঞ্চিত হয়েছি। বাবা চাচার আত্মত্যাগের বিনিময়ে দলের কাছে কোন আনুকুল্য চাইনি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে ধারণ করে ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত আছি। উপ-নির্বাচনে দলের কাছে মনোনয়ন চাইব।

রফিক উদ্দিন ঠাকুরঃ- সরাইল উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন ঠাকুর বলেন, আমি উপজেলা পরিষদ থেকে পদত্যাগ করে উপ-নির্বাচনে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করব। তিনি বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি। উল্লেখ্য রফিক উদ্দিন ঠাকুর সরাইল উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ.কে ইকবাল আজাদ হত্যা মামলার চার্জশীটভুক্ত আসামী। বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।
অ্যাডভোকেট নাজমুল হোসেনঃ- সরাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট নাজমুল হোসেন বলেন, ১৯৭৩ সালের পর এই আসন থেকে আওয়ামী লীগ কোন এমপি পায়নি। তাই উন্নয়নবঞ্চিত এ আসনটিতে আমরা আওয়ামী লীগ থেকে এমপি চাই। নির্বাচনে আমি একজন প্রার্থী ।

অ্যাডভোকেট আশরাফ উদ্দিন মন্তুঃ সরাইল উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আশরাফ উদ্দিন মন্তু বলেন, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও প্রার্থী হয়েছিলাম। উপ-নির্বাচনেও প্রার্থী হব। তিনি বলেন, ৭৩ এর পরে এই আসনে আওয়ামীলীগের কোন এমপি না থাকায় এলাকায় কাঙ্খিত উন্নয়ন হয়নি। তিনি উন্নয়ন-অগ্রগতির সার্থে উপ-নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়ার দাবি জানান।

সরাইল উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য উম্মে ফাতেমা নাজমা বেগম ওরফে শিউলী আজাদের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সাথে পরামর্শ করে তিনি প্রার্থীতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।

এ ব্যাপারে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা আল-মামুন সরকার বলেন, এই আসনটি বিগত তিনটি নির্বাচনে মহাজোটের শরীক দল জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তিনি এলাকার কাঙ্খিত উন্নয়নের স্বার্থে আগামী উপ-নির্বাচনে এই আসনে আওয়ামীলীগের প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়ার দাবি জানান।

মোঃ বাহারুল ইসলাম মোল্লা

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

Shares