ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্যাপক সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে শেষ হল দ্বিতীয় দিনের হরতাল

0 0


পিকেটারদের সাথে পুলিশ ও আওয়ামীলীগের ত্রিমুখী ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া,
আহত ২০, পুলিশের অর্ধশত রাবার-টিয়ার সেল নিক্ষেপ, ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের স্লিপারে আগুন ॥ ৮ যানবাহন ভাংচুর ॥ আটক ১৫


মনিরুজ্জামান পলাশ : ১৮ দলীয় জোটের ডাকা ৩৬ ঘন্টা হরতাল দ্বিতীয় দিনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের সাথে পিকেটারদের ধাওয়া-পাল্ট ধওয়া সংঘর্ষ, রেল স্লিপারে আগুন, গাড়ি ভাংচুরসহ বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্যদিয়ে পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে কুমিলা-সিলেট মহসড়কের শহরের পুনিয়াউট এলাকায় পুলিশের সাথে পিকেটারদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

 

এ সময় পুলিশ ২১ রাউন্ড রাবার বুলেট ও ৬ রাউন্ড কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। সংঘর্ষের সময় কমপে ৫ জন আহত হয়েছে। শহরের শেরপুরে পুলিশের সাথে পিকেটারদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। চট্টগ্রাম-সিলেট মহাসড়কের ঘাটুরা এলাকায় ৫টি সিএনজি ভাংচুর করে হরতালকারীরা। এ সময় পুলিশ ৩ রাউন্ড টিয়ারসেল ব্যবহার করে ও  ঘটনাস্থল থেকে ২ জনকে আটক করে। দুপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট রেলপথে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শিমরাইলকান্দি এলাকায় রেল স্লিপারে আগুন ধরিয়ে হরতালকরীরা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে আগুন নিয়ন্ত্রণ আনে। সদর উপজেলার সুলতানপুরের পঞ্চবটিতে পিকেটিংকে কেন্দ্র হরতাল সমর্থক ও বিপরে লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পরে ১৫জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে নিজাম উদ্দিন হাজারী (৩২), শেখ বিল্লাল (১৬), শেখ হেলাল (৪০), শেখ আইনাল (৩০), আবু সাত্তার (৩৭), জাহাঙ্গীর (৩৫), মালেক মিয়া (৩৮) কে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি ও অন্যদের চিকিৎসা দেয়া হয়। গুরুতর আহত নিজাম উদ্দিন হাজারীর অবনতি ঘটলে তাকে ঢাকায় প্রেরন করা হয়। দুপুরে বিএনপি’র নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে শহরের আধুনিক পৌর মার্কেট এলাকায় আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের ধাওয়া করে।

 

পরে পুলিশী প্রহরায় স্বেচ্ছাসেবকলীগের লোকমান ও আরিফেরে নেতৃত্বে একটি মিছিল বের হয়ে তাদের পাল্টা ধাওয়া করে। এ সময় সারা শহরে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ শহরের কান্দিপাড়া, শিমরাইল কান্দি, খাদ্যগুদাম এলাকায় বিএনপি নেতাকর্মীদের ধাওয়া করলে তারা পুলিশকে ল্য করে অর্ধশতাধিক ককটেল বিষ্ফোরণ ঘটায়। হরতাল সমর্থকরা ছাত্রলীগের এক কর্মীকে মারধর করলে ছাত্রলীগ কর্মীরা একত্রিত হয়ে থানা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক এমদাদুল আহমেদ সুমনের শহরের পাইকপাড়ার বাসভবনে ২টি ককটেল বিষ্ফোরণ ঘটায়। এ সময় তারা ওই সড়কের নকশী বাংলা কিনিকে ব্যাপক হামলা চালিয়ে জেনারেটরসহ আসবাবপত্র ভাংচুর চালায়।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হক খোকন জানান, এখন পর্যন্ত পুলিশ মহিলা দলের সহ-সভাপতি লিলি আক্তারসহ তাদের ১০ নেতাকর্মীকে আটক করেছে।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম জানান,সুলতানপুরে পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্রকরে সংঘর্ষে আহত ব্যাক্তির মৃত্যুর গুজবেই শহরে তান্ডব শুরু হয়। এসময় পুলিশকে লক্ষ করে ককটেল নিক্ষেপ করতে থাকে পিকেটাররা। আমরা রাউন্ড রাবার বুলেট এবং টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনি।

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

Shares