বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার সাথে দেখা করার অন্তিম ইচ্ছা – আই,সি,ইউ তে যাবার পূর্বে দিলারা হারুন

0 0

একদিকে চলছে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বিদেশী বন্ধুদের সন্মাননা, অপর দিকে এক বীরমুক্তিযোদ্ধা অর্থের অভাবে চিকিৎসা বিহীন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামীলীগ নেত্রী, বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচারিণী, বীর মুক্তিযোদ্ধা দিলারা হারুন। বর্তমানে তিনি কেন্দ্রীয় শ্রমিক লীগের অন্যতম সহ সভাপতি। বাংলাদেশ স্বাধীনতা যুদ্ধে যে কয়জন নারী অংশগ্রহণ করেছে তাদের মধ্যে অন্যতম হল দিলারা হারুন। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন দিলারা হারুন। জেল জুলুম পুলিশের লাঠি চার্জ সব কিছুতেই তিনি পালন করেন অগ্রণী ভূমিকা। তৎকালীন সময়ে তিনি ছিলেন জেলা ভিত্তিক যে কোন আন্দোলনে প্রধানের ভূমিকায়। জেলা আন্দোলন, গ্যাস রক্ষা আন্দোলন দিলারা হারুনকে ছাড়া কল্পনা করা যেতো না ।  দিলারা হারুনের মুক্তিযুদ্ধে আত্বত্যাগ এবং কাজের প্রতি নিষ্ঠা দেখে বর্তমান প্রধান মন্ত্রী ১৯৯৬ সালে দিলারা হারুনকে সংসদ সদস্য করেছিলেন। তিনি তার সীমিত ক্ষমতা দিয়ে সেবা করেছেন এলাকার মানুষের। তার সম সাময়িক রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদ. আব্দুল জলিল আজ সরকারী দলের নেতা বিধায় অনেক উপরে অবস্থান করছেন। আর একজনের কথা না বললেই নয়। তিনি হলেন বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি, যিনি তাকে নিজের বোন বলে অভিহিত করেছেন। গত কয়েক বছর আগে তার দীর্ঘ দিনের সাথী জীবন সঙ্গী অধ্যাপক এ,কে,এম হারুনুর রশীদ পরলোক গমন করেছেন। এরপর থেকেই তিনি ধীরে ধীরে অসুস্থ হয়ে পড়েন। অসুস্থতার সাথে সাথে দলীয় নেতা কর্মীদের থেকেও দূরে সরে যান। বর্তমানে তিনি একেবারে নিঃস্ব। চলার মত অর্থ আজ তার হাতে নেই। গত বৎসর মহামান্য রাষ্ট্রপতি ব্রাহ্মণবাড়িয়া  এসেছিলেন। মারাত্বক অসুস্ত থাকা সত্বেও তিনি দলের টানে বোনের দাবী নিয়ে রাষ্ট্রপতির সাথে দেখা করেন। রাষ্ট্রপতিও তাঁকে দেখে আবেগাপ্লুত হন এবং তার চিকিৎসার ব্যপারে সহায়তার আশ্বাস দেন। পরবর্তীতে তিনি প্রধান মন্ত্রীর তহবিল থেকে কিছু টাকা অনুদান হিসেবে পান। স্বস্তি মাত্র এতটুকুই। আজ দেশে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের সরকার সারা বাংলার দাবী অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলছে। দলীয় মন্ত্রীরা প্রতিনিয়ত আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বোচ্চ সন্মান দিচ্ছি বলে গলা ফাটাচ্ছে। বিদেশ থেকে অতিথি দাওয়াত দিয়ে এনে সন্মাননা দেওয়া হচ্ছে। বড়ই গর্বের ব্যপার। কিন্তু কথায় আছে, গায়ের যোগী ভাত পায়না।
বর্তমানে দিলারা হারুন ঢাকা সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে জীবন মৃত্যুর স›িদ্ধক্ষণে ।
দিলারা হারুনের ছেলে প্রচন্ড ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমার মা মরে যাক তাতে বোধ হয় কারো কিছু আসে যাই না । সারা জীবন দেশ ও দলের জন্য কাজ করে গেছেন বিনিময়ে পাচ্ছেন বিনা চিকিৎসা। দিলারা হারুনের শারিরীক অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
তিনি আই,সি,ইউ তে যাবার পূর্বে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার সাথে দেখা করার অন্তিম ইচ্ছা প্রকাশ করেন। দিলারা হারুনের ছেলে এহসানুর রশিদ রনন তার মায়ের সুস্ততার জন্য সমগ্র দেশবাসীর দোয়া কামনা করেন। {jcomments on}

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

Shares