ওয়ার্ল্ড কনসার্নের ইপজিয়া প্রকল্পের আয়োজনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ডায়লগ সেশন অনুষ্ঠিত

0 0

“ক্ষতিকারক সামাজিক নিয়মকে চ্যালেঞ্জ করে ইতিবাচক পরিবর্তনে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ওয়ার্ল্ড কনসার্ন ইপজিয়া প্রকল্পের আয়োজনে বুধবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলায় সুহিলপুর ইউনিয়নে ওয়ার্ল্ড কনসার্ন অফিসে ডায়লগ সেশনে অনুষ্ঠিত হয়।

ক্ষতিকারক সামাজিক নিয়মকে চ্যালেঞ্জ করে ইতিবাচক পদক্ষেপ জোরদারের মাধ্যমে সমাজের মানুষের মনোভাবের পরিবর্তনের সহায়তার লক্ষ্যে দিনব্যাপি এই সংলাপের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো: ফরহাদ হোসেন। তিনি অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন ঘোষনা করেন এবং ওয়ার্ল্ড কনসার্ন ইপজিয়া প্রকল্পের আয়োজনকে সাধুবাদ জানান। তিনি বলেন, আজকের এই ডায়লগ সেশনের ফলে সমাজের অনেক বড় উপকার হবে। তিনি বলেন সমাজের মানূষ বেশির ভাগ পিছিয়ে থাকে অনেক কিছু না জানার ফলে। ওয়ার্ল্ড কনসার্ন এর এই আয়োজনের ফলে অনেক বিষয় তারা খুব ভালোভাবে জানতে পারবে। যেমন: শিশু ও নারী অধিকার, মানব পাচার প্রতিরোধ, বাল্য-বিবাহের কূফল, শিশু শ্রমের ভয়াবহতা ইত্যাদি আরো অন্যান্য বিষয়।

প্রতিষ্ঠানের পক্ষে শুভেচ্ছা জানান আর.এম.সি.পি প্রোগ্রামের এর ব্রাঞ্চ ইনচার্জ নূর-নবী সরদার। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন ওয়ার্ল্ড কনসার্ন ব্রাহ্মনবাড়িয়ার সদর উপজেলায় সুহিলপুর ইউনিয়নের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। সকলের সম্মন্বিত কাজের মাধ্যমে মানুষের মনোভাবে পরিবর্তন হবে। ওয়ার্ল্ড কনসার্ন ব্রাহ্মনবাড়িয়ার এফ.ডি,সি.এস প্রোগ্রামের অফিসার প্রবীর নকরেখ- তিনি তার প্রোগ্রাম সম্পর্কে প্রধান অতিথিকে অবগত করেন। তিনি বিশেষ ভাবে নারীদের উদ্দেশ্য করে বলেন আপনাদেরকে অনেক বেশি সচেতন থাকতে হবে। নারীরা অনেক বিষয়ে অসহায়, যাতে করে এর সুযোগ কেউ না নিতে পারে। ইপজিয়া প্রোগ্রামের কার্যক্রম সম্পর্কে অলোচনা করেন প্রোগ্রাম অফিসার মি. প্রবাল সাহা (অর্ক) ব্রাহ্মনবাড়িয়া সদর। তিনি প্রকল্পের সার্বিক বিষয় অর্থাৎ- লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য উপস্থিত সকলকে অবগত করেন।

সভাপতিত্ব করেন সুহিলপুর ইউনিয়ন আওয়ামিলীগ এর সভাপতি জাহাঙ্গীর কবীর খান দুলাল। তিনি তার আলোচনায় বলেন, এই সংস্থার কাজের মাধ্যমে শিশু ও নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠত হচ্ছে বাল্যবিবাহের হার অনেকটা কমে এসেছে। জন্মানিবন্ধনের বিষয়ে সাধারন মানূষ অনেকটা সচেতন হয়েছে। মানবপাচার হার কিছুটা বেড়েছে। মানব পাচার বিষয়ে আমরা বিভিন্নভাবে মানুষকে সচেতন করছি। বাল্য বিবাহ ও মানবপাচার মুক্ত ইউনিয়ন করতে আমার চেষ্টা করবো।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আবু তালেব, জিতু মিয়া, রেনু বেগম ও আরো অনেকে। তাদের আলোচনার মধ্যে বলেন ওয়ার্ল্ড কনসার্ন তাদের কাজের মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখছে গ্রামের শিক্ষা, শিশুদের অধিকার রক্ষার্থে, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, পাচার ও অন্যান্য ক্ষেত্রে আরো উন্নয়ন কল্পে বিশেষ কার্যক্রম শুরু করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় আজকের এই আলোচনার আয়োজন। তাদের এই আলোচনার মাধ্যমে সমাজের জন্য ক্ষতিকারক নিয়ম বন্ধে ইতিবাচক দিক নিদের্শনা আসবে।
ক্ষতিকারক সামাজিক নিয়মকে চ্যালেঞ্জ করে, ইতিবাচক পদক্ষেপ জোরদার করে মনোভাবের পরিবর্তন করার লক্ষে সমাজ ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, পেশাজীবি, মসজিদের ইমাম সহ মোট ২০ জন উপস্থিত ছিলেন।
ডায়লগ সেশন পরিচালনা করেন ইপজিয়া প্রোগ্রামের প্রোগ্রাম অফিসার প্রবাল সাহা অর্ক। পরিশেষে সকলে শিশুসুরক্ষার ও বাল্য-বিবাহ প্রতিরোধে নিশ্চিত করতে গনস্বাক্ষর করেন এবং উপস্থিত সকলে অঙ্গীকার করেন বাল্যবিবাহ বন্ধে সক্রিয় ভুমিকা রাখবে।

ইপজিয়া প্রকল্পের উদ্দেশ্য হচ্ছে ধমীয় নেতা, সাংবাদিক,শিক্ষক, পেশাদার ও ডিউটি বিয়ারারদের শিশু-অধিকার বিষয়ে জ্ঞানবৃদ্ধি এবং সমাজে সুরক্ষা পদ্ধতি শক্তিশালী করার মাধ্যমে একটি নিরাপদ পরিবেশ প্রতিষ্ঠিত করা, যেখানে বাল্য বিবাহের ঝুকিমুক্ত ও সামাজিক বিঘ্নজনিত দৃষ্টিভঙ্গি মুক্ত পরিবেশে শিশুদের বৃদ্ধি ও বিকাশ ঘটবে। সচেতনতা ও দক্ষতাবৃদ্ধি এবং কার্যকর ও নিরাপদ সুরক্ষা পদ্ধতি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সমাজকে ক্ষমতায়িত করা যেন তারা নিজেরাই নিজেদের সমাজ ও পরিবেশকে পাচার, অবৈধ অভিবাসন, নির্যাতন ও শোষণ থেকে সুরক্ষিত রাখতে সক্ষম করা। অতি দরিদ্র পরিবারের বহুমুখী টেকসই জীবিকা এবং খাদ্য নিরাপত্তা শক্তিশালী করা এবং তাদের নিজস্ব সম্পদ বৃদ্ধিকরণে ক্ষমতায়িত করা।

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

Shares